Cultaholic ওয়েবসাইটে জাস্টিন হেনরির লেখা প্রায় ২০ মিনিটের দীর্ঘ একটি ফিচার আর্টিকেল "A Failed Experiment: The Ultimate Warrior As WWE's Successor To Hulk Hogan" রেসলিং ইতিহাসের একটি বড় বুকিং ব্লান্ডারের দিকে আলো ফেলেছে। আশির দশকের শেষভাগ এবং নব্বই দশকের শুরুতে ডাব্লিউডাব্লিউই মানেই ছিল হাল্ক হোগান।
হলুদ এবং লাল রঙের টি-শার্ট ছিঁড়ে রিংয়ে তার এন্ট্রি ফ্যানদের উন্মাদনার চরম শিখরে নিয়ে যেত। কিন্তু রেসলিং ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো মেগাস্টারই চিরকাল শীর্ষে থাকতে পারে না। ভিন্স ম্যাকম্যান বুঝতে পারছিলেন যে হোগানের বয়স বাড়ছে এবং হলিউডের দিকে তার ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। তাই কোম্পানির জন্য একজন নতুন ফেস প্রয়োজন ছিল। আর এই গুরুদায়িত্বটি দেওয়ার জন্য ভিন্স বেছে নিয়েছিলেন দ্য আল্টিমেট ওয়ারিয়রকে।
ওয়ারিয়রের লুক ছিল দেখার মতো। মুখে রঙিন পেইন্ট, হাতে নিয়ন রঙের ট্যাসেল, আর এন্ট্রান্স মিউজিক বাজার সাথে সাথে রিংয়ের দিকে পাগলের মতো দৌড়ে আসা—সব মিলিয়ে ফ্যানদের মধ্যে তাকে নিয়ে এক অদ্ভুত হাইপ তৈরি হয়েছিল। ইন্টারকন্টিনেন্টাল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তিনি বেশ সফল ছিলেন। এরপর এলো রেসেলম্যানিয়া সিক্স।
টরন্টোর স্কাইডোমে অনুষ্ঠিত সেই আইকনিক "The Ultimate Challenge" ম্যাচে হাল্ক হোগান এবং আল্টিমেট ওয়ারিয়র মুখোমুখি হন। হোগান সেই ম্যাচে ক্লিন পিনফল হারেন এবং ম্যাচ শেষে ওয়ারিয়রের হাতে টাইটেল তুলে দিয়ে এক প্রকার টর্চ পাস করার সিগন্যাল দেন। ক্রাউডের পপ ছিল আকাশছোঁয়া। মনে হচ্ছিল ডাব্লিউডাব্লিউই তাদের নতুন সুপারম্যানকে পেয়ে গেছে।
কিন্তু সমস্যা শুরু হলো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঠিক পরদিন থেকে। এই আর্টিকেলে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন ওয়ারিয়রের টাইটেল রানটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। প্রথমত, ওয়ারিয়রের ইন-রিং স্কিল ছিল একেবারে জিরো। তিনি রিংয়ে দৌড়ে আসতেন, রশি ধরে ঝাঁকাতেন, কয়েকটা পাওয়ার মুভ দিতেন এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্কোয়াশ ম্যাচ শেষ করে দিতেন।
মেইন ইভেন্ট লেভেলের রেসলারদের সাথে বিশ মিনিটের একটি স্টোরিটেলিং ম্যাচ উপহার দেওয়ার মতো স্ট্যামিনা বা সাইকোলজি তার ছিল না। হাল্ক হোগান হয়তো খুব টেকনিক্যাল রেসলার ছিলেন না, কিন্তু ক্রাউডকে কীভাবে রিড করতে হয় এবং ম্যাচের পেস কীভাবে কন্ট্রোল করতে হয়, তা তিনি খুব ভালো করেই জানতেন। ওয়ারিয়রের এই জিনিসটাই ছিল না।
দ্বিতীয়ত, তার প্রোমো ডেলিভারি। রেসলিং দুনিয়ায় প্রোমো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কিন্তু ওয়ারিয়রের প্রোমোগুলো শুনলে মনে হতো তিনি হয়তো ভুল করে কোনো সাই-ফাই সিনেমার স্ক্রিপ্ট পড়ছেন। তিনি ক্র্যাশ করা প্লেন, রকেটশিপ, এবং গ্যালাক্সির দেবতাদের নিয়ে এমন সব অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতেন যা সাধারণ ফ্যানদের মাথার ওপর দিয়ে যেত। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো ড্রয়িং পাওয়ার।
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোম্পানির লাইভ ইভেন্টগুলোতে টিকিট বিক্রির মূল দায়িত্ব থাকে চ্যাম্পিয়নের কাঁধে। কিন্তু ওয়ারিয়র যখন হাউজ শোগুলোতে মেইন ইভেন্ট করতে শুরু করলেন, তখন টিকিট বিক্রি হোগানের সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। ফ্যানেরা তাকে একজন এনার্জেটিক মিড-কার্ডার হিসেবে ভালোবাসলেও, কোম্পানির ফেস হিসেবে তাকে দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ভিন্স ম্যাকম্যানকে পুনরায় হাল্ক হোগানের কাছেই চ্যাম্পিয়নশিপ ফিরিয়ে দিতে হয় এবং ওয়ারিয়রের মেইন ইভেন্ট পুশের সেখানেই সমাপ্তি ঘটে। এই স্টোরিটি প্রমাণ করে যে, শুধু এক্সপ্লোসিভ এনার্জি থাকলেই রেসলিং দুনিয়ায় টপ স্পট ধরে রাখা যায় না; ফ্যানদের সাথে ইমোশনাল কানেকশন তৈরি করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

কোন মন্তব্য নেই
কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ!